• ভেন্যুঃ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী , বগুড়া , বাংলাদেশ।
  • +৮৮০১৭২৯৭৬০৪৯৪
  • তারিখঃ ০৯ ও ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন

বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ

ভূমিকাঃ

জাতির স্বরুপ প্রতিবিম্বিত হয় তার সাহিত্যে, তার ইতিহাস। কোন জাতির সাহিত্য ও ইতিহাস পাঠ করলে সে জাতির অনন্য দৃষ্টিভংগী, কৃষ্টি ও জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। এক কথায়, জাতীয় চরিত্রের চেহারা ফুটে ওঠে সাহিত্যে ও ইতিহাসে।

যে জাতির ইতিহাস বোধ নেই, তার উন্নতি ও অগ্রগতিরও কোন সম্ভাবনা নেই। পক্ষান্তরে যে জাতি যতোটা ইতিহাস সচেতন সে ততো বেশী জীবন্ত ও গতিশীল। কেননা ইতিহাসের ও ঐতিহ্যের আলোকে যে জাতি জীবন-পথে অগ্রসর হোতে পারে না এবং ভবিষ্যৎ পথ চলার নির্দেশ পায় না, জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে তার আয়ুষ্কাল হয় নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী।

বর্তমানে জনগণ বিশেষ করে সুধী ও ছাত্র সমাজের মধ্যে ইতিহাস চর্চা একেবারেই বিরল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশই পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট ইতিহাসই শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার জন্য অধ্যায়ন করে থাকেন। ফলে বৃহত্তর পরিসরে ইতিহাস চর্চা পরিলক্ষিত হয়না।

জাতি, সভ্যতা, দেশ, মহাদেশের ইতিহাস চর্চা মানুষের জ্ঞানের পরিধিকের বিস্তৃত করে। মুষ্টিমেয় ইতিহাস বেত্তা বলে পরিচিত মহল বিশেষের দেশের অতীত ইতিহাস বিকৃতি করার অপপ্রয়াসও লক্ষ্য করা যায়। অতীতের ত্রুটি বিচ্যুতিকে পাদপ্রদীবের আলোকে উদ্ভাসিত করে সম্মুখে সমাজ সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে - ইতিহাস চর্চা।

এতদ উদ্দেশ্যে আমরা ইতিহাস চর্চার জন্য বগুড়ায় একটি সংগঠন তৈরীর তাগিদ অনুভব করছি। উল্লেখযোগ্য যে, এই সংগঠন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, দেশ প্রেমিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান।

২০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা এ গবেষণলদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নাম করন করা হয় "বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ"।

সম্মেলন ভেন্যুর নিকটবর্তী আবাসনের সুবিধা

  • হোটেল মোমো ইন

  • হোটেল নাজ গার্ডেন

  • হোটেল ক্যাসেল সোয়াদ

    >
  • হোটেল লা ভিলা

    >

কনফারেন্স ভ্যানুঃ

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী
বগুড়া, বাংলাদেশ

বগুড়ার দর্শনীয় স্থান

বগুড়ায় অবস্থানকালীন সময়ে, আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এই প্রাণবন্ত অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অন্বেষণের জন্য। মহাস্থানগড়ের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ থেকে শুরু করে শেরিয়াকান্দি প্রেম যমুনার ঘাটের নির্মল সৌন্দর্য পর্যন্ত, বগুড়া ও এর আশপাশের এলাকা বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক চমৎকার ঝলক উপস্থাপন করে। আপনি আরও ঘুরে দেখতে পারবেন গ্রামীণ উন্নয়ন একাডেমি (RDA), যা গ্রামীণ উন্নয়নের এক উৎকর্ষ কেন্দ্র এবং আমাদের জনস্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সাযুজ্যপূর্ণ। বগুড়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের এক অনন্য মিশ্রণ আবিষ্কারের মাধ্যমে আপনার সময়টা আনন্দদায়ক হোক! বগুড়া, যা বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। এখানে বগুড়ার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থানের নাম তুলে ধরা হলো:

মহাস্থানগড়

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর মধ্যে একটি, যার ইতিহাস খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। এই স্থানে প্রাচীন প্রাসাদ, মন্দির ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যশৈলীর জাঁকজমককে প্রতিফলিত করে।

বেহুলার বাসর ঘর

ChatGPT said: বেহুলার বাসর ঘর একটি প্রাচীন কিংবদন্তির স্থান, যা বেহুলা-লখিন্দরের লোককাহিনির সঙ্গে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, এটি সেই ঘর যেখানে বেহুলা তার স্বামী লখিন্দরের সঙ্গে বাসর করেছিলেন, যাকে সাপ দংশন করেছিল। এই স্থানটি বাংলা সংস্কৃতি ও পুরাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

গোকুল মেধ

গোকুল মেধ, যা লখিন্দরের মেধ নামেও পরিচিত, এটি মহাস্থানগড়ের কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক স্থান। এখানে একটি উঁচু ঢিবির উপর ধাপে ধাপে তৈরি মঞ্চের সারি রয়েছে, যা গুপ্ত যুগের কোনো বৌদ্ধ স্তূপ বা মন্দির কমপ্লেক্সের অবশিষ্টাংশ বলে ধারণা করা হয়।

বিহার ধাপ

বিহার ধাপ বগুড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাতাত্ত্বিক স্থান, যা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের অংশ বলে ধারণা করা হয়। খননকার্যে এখানে ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর নিদর্শন, মাটির পাত্র ও অন্যান্য প্রত্নবস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় অতীত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।

ভাসু বিহার

ভাসু বিহার বগুড়ার কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার স্থল। পাল রাজবংশের সময় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল। এখানে বিশাল এক ধর্মচক্র, স্তূপ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলীর প্রতিফলন ঘটায়।

পাহাড়পুর

বগুড়ার নিকটস্থ নওগাঁ জেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর হল সোমপুর মহাবিহারের স্থান, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এই প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারটি অষ্টম শতাব্দীর, এবং এটি একটি প্রসিদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র ও দক্ষিণ এশিয়ায় মহাযান বৌদ্ধধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

জগদ্ধলা মহাবিহার

জগদ্ধলা মহাবিহার, joypurhat জেলার কাছে, বগুড়ার নিকটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি পাল রাজবংশের সময়কালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ বিহার ছিল, যা শিক্ষাগত এবং ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য পরিচিত ছিল। ধ্বংসাবশেষগুলির মধ্যে রয়েছে স্তূপ, মন্দির এবং সন্ন্যাসীদের কোষ।

পাটিসার রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি

নওগাঁ জেলায় অবস্থিত পাটিসার রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি মহান বাঙালি কবি ও নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সংযুক্ত। এই স্থানে রয়েছে কাচারী বাড়ি (প্রশাসনিক বাড়ি), যেখানে ঠাকুর পাটিসারে তার পরিবারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করতেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান, যা ঠাকুরের জীবন এবং বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তার অবদান তুলে ধরে।

নান্দাইল দিঘী

নান্দাইল দীঘি বগুড়ার কাছে একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা তার বৃহৎ প্রাচীন জলাধার (দিঘী) এবং নিকটস্থ মন্দির ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত। এই দিঘীটি পাল যুগে নির্মিত বলে বিশ্বাস করা হয়, যা পানি সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। দিঘীর আশেপাশে মন্দির এবং অন্যান্য স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে, যেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ ইতিহাসপ্রেমীদের এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA) বগুড়া

বগুড়ায় অবস্থিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA) বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, RDA বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষণা সুযোগ এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ প্রদান করে যা গ্রামীণ এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধনে সহায়ক। একাডেমির ক্যাম্পাসটি সুন্দরভাবে সাজানো এবং বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও গ্রামীণ উদ্ভাবনে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান।

সারিয়াকান্দি প্রেম যমুনার ঘাট

সারিয়াকান্দি বগুড়ার একটি উপজেলা, যা তার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত প্রেম যমুনার ঘাটের জন্য পরিচিত। এই ঘাটটি স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য নদীর প্রকৃতি উপভোগ করার একটি জনপ্রিয় স্থান, বিশেষ করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময়। এটি একটি ফেরিঘাট হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এবং স্থানীয় বাণিজ্য ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং মনোরম দৃশ্যের কারণে এটি বগুড়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য অন্বেষণের জন্য অবশ্যই পরিদর্শনীয় স্থান।

খেরুয়া মসজিদ

খেরুয়া মসজিদ বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। ১৬ শতকের শুরুর দিকে সুলতানাতের শাসনকালে নির্মিত এই মসজিদটি ঐ সময়ের স্থাপত্যশৈলীর একটি চমৎকার উদাহরণ, যার দেয়ালে আছে টেরাকোটা অলংকরণ এবং জটিল নকশা। মসজিদটি এখনও সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান।

বগুড়ার দই শিল্প

বগুড়ায় আসা হলে স্থানীয় খ্যাতনামা দই তৈরির শিল্প "বগুড়ার দই" উপভোগ করা ছাড়া হবে না। সমগ্র বাংলাদেশে এটি তার সমৃদ্ধ, মসৃণ টেক্সচার এবং অনন্য স্বাদের জন্য পরিচিত। বংশ পরম্পরায় প্রথাগত পদ্ধতিতে দই তৈরি করা হয়। পর্যটকরা স্থানীয় দুগ্ধ খামার এবং দইয়ের দোকানগুলোতে যেতে পারেন, যেখানে তারা দুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ফারমেন্টেশন এবং প্যাকেজিং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন। বগুড়ায় তাজা, হাতে তৈরি দই খাওয়া একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা, যা অঞ্চলটির সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্য এবং গুণগতমানের প্রতি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।

  • Address

  • Contact No :

  • E-mail

    m